টুক করে ঘুরে আসিঃ পাথরঝোরা চা বাগান
টুক করে ঘুরে আসি
পাথরঝোড়া চা বাগান
সত্যম ভট্টাচার্য
আমাদের অনুভবেরা একটু চালিয়াৎ হয় ঠিকই কিন্তু তারা যে অবসময় আমাদের ভুলপথে চালিত করে এমনটা নয়। অনেক সময়ই তারা আমাদের সঠিক খবর দিয়ে ঠিক পথেই এগিয়ে দেয়। আর এভাবেই একদিন পৌঁছে গেলাম পাথরঝোড়া চা বাগানে।
ডুয়ার্সের আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছি কম দিন নয় এবং তা নিয়ে সত্যিই সামান্য শ্লাঘা অনুভব করি। কিন্তু যেদিন প্রথম পাথরঝোড়া চা বাগানে গেলাম, সত্যিই কবীর সুমনের গানের লাইনের সাথে মিলিয়ে মনে হল-কতটুকু আর দেখতে পেরেছি?
যাই হোক, বাড়ি থেকে বেশী দূরে নয়। ওদলাবাড়ি চৌমাথা। জলপাইগুড়ির দিক থেকে গেলে পেরুতে হবে মূল রাস্তা। সে ডানদিকে মালবাজারের দিক থেকে এসে বামদিকে সেবকের দিকে চলে গিয়েছে। সে রাস্তা পেরিয়ে ট্রেন লাইনের নীচ দিয়ে বেরিয়ে মানাবাড়ি তুরিবাড়ি ক্রস করে আমরা যখন সেই সবুজ ঢেউ খেলানো চা বাগানের মধ্যে গিয়ে পড়লাম, সে যেন আমাদের বললো-এতদিন কোথায় ছিলেন?
দিনটাও ছিল ঠিক তেমনই। চারিদিকে রোদ ঝকঝক করছে। দৃশ্যমানতাও বেশ ভালো সেদিন। গাজলডোবা পেরিয়ে যখন ওদলাবাড়ির দিকে এগুচ্ছি কাঞ্চনজঙ্ঘা তখন তিস্তার জলে নিজের ছায়া ফেলে চুপচাপ বসে সকলকে তার সামনে একবার অন্তত দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে যেতে বাধ্য করছে। ঠিক যেন সুন্দরীদের সামনে দাঁড়িয়ে-কেয়া করে কন্ট্রোলই নেহি হোতা কেস।
ভাবলাম কেন এতদিন আসিনি এখানে। এত সুন্দর এত সুন্দর চারিদিক যে বলে বোঝানো যাবে না। সব থেকে ভালো হবে পাঠক নিজে যদি একদিন ঘুরে আসেন। তবে ঐ যে বললাম ঝকঝকে দিন দেখে যাবেন। নিজেও পরিবারকে নিয়ে গিয়ে এই চক্রান্তের শিকার হয়েছি।
তবে সৌন্দর্য্যের যদি কোন মাপকাঠি থাকতো তবে ডুয়ার্সের পাথরঝোড়া তার সামনের সারিতে থাকতো বলেই মনে হয়। নীলচে সবুজ পাহাড় গাঢ় নীল আকাশের দিক থেকে নেমে এসে নিজেকে ছেড়ে দিয়েছে সবুজ চা বাগানের ঢালে। তার সামনে দিয়ে সরু পিচের রাস্তা বাগান হয়ে ফ্যাক্টরী হয়ে নিয়ে যাচ্ছে শিরুবাড়ি বাজারে। সে রাস্তা পাহাড়ে পাক খেয়ে আরো এগুচ্ছে কাফেরগাঁও এর দিকে। পারলে এগোন আর না পারলে শিরুবাড়ি বাজার থেকে ঘুরে এসে আবার দাঁড়ান ঐ আশ্চর্য সুন্দরের মধ্যে। আর মুগ্ধ হন। সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হওয়া প্র্যাকটিস করুন।
ফোটোঃ লেখক
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন