গানের লীলার সেই কিনারেঃ শুভময় ঘোষ


 ছবিঃ https://wallpapersafari.com

বিশেষ রচনা

 

পিপুফিশোর ডায়েরি

গানের লীলার সেই কিনারে

শুভময় ঘোষ 

 

সময়ের স্বল্প ব্যবধানে চারুকলা বিষয়ক দু-দুটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হল 'সান্ধ্য জলপাইগুড়ি'র পৃষ্ঠায়। প্রথমটি, প্রখ্যাত সন্তুরবাদক শ্রদ্ধেয় শিবকুমার শর্মা স্মরণে প্রয়াণলেখ; অন্যটি কবি বিজয় দে রচিত 'মধুবালার বেড়াল' কবিতাগ্রন্থ সম্পর্কে সম্পাদকমশাইয়ের মুগ্ধবোধ। দুটি রচনাই 'স্বাদু স্বাদু পদে পদে'। যদিও সম্পাদকমশাই কিংবা শ্রদ্ধাভাজন শিল্পী অথবা কবিবরের পৃষ্ঠকন্ডুয়ন-এ লেখার উদ্দেশ্য বা বিধেয় কোনোটিই নয়; তবু, শুরুতেই এই শরণাগতির কারণ -- অল্পকালিক ব্যবধানে উঠে আসা ঐ লেখা দুটি পিপুফিশোর মনে যে বোধোদয় ঘটিয়ে দিয়েছে তাতেই এ লেখার আঙটপাত।

গৌরচন্দ্রিকা ছেড়ে এবার তবে সরাসরিই বলা যাক। চারুশিল্পের যে সূক্ষ্ম কারুকাজ; ধরা যাক, উচ্চাঙ্গসঙ্গীত বা মার্গসঙ্গীত, চিত্রকলা কিংবা আধুনিক কাব্য-কবিতা --- আমাদের আমজনতার দৈনন্দিন প্রায়োজনিকতার বাইরে এই যে শিল্পের এক বিচিত্র ভুবন --- এর সঙ্গে কীভাবে, কেমন করে সেতু রচনা করতে পারেন জনতা জনার্দন?  বিশেষত, যাঁরা দাঁড়িয়ে আছেন এই শিল্পচর্চার বৃত্তের বাইরে? যাঁরা এ বিষয়ে অ-শিক্ষিত, অধিকারহীন? এ ধরনের বিশেষ কলায় প্রশিক্ষিত না হয়েও কেমন করে (বা আদৌ কি) তিনি তৈরি করতে পারেন সূক্ষ্মশিল্পকর্ম আস্বাদনের এক নিভৃত, নিজস্ব সুঁড়িপথ --- আর তখন ঋদ্ধ হতে পারেন তার অভিভবে ?

কথাটা তুচ্ছ করবার নয় মোটেই ---- বিশেষত, যখন  বিষয়টি ঘুরে ঘুরে ফিরে ফিরেই জীবনের নানান সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই আমাদের মতন শিক্ষিত-অভিমানীর লজ্জা, কুণ্ঠা নতুবা প্রবল অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিল্প-সমঝদারের 'যজ্ঞশালা'য় 'আত্মহোমের বহ্নি' জ্বালিয়ে তুলতে না পারার বেদনায় তখন হেঁটমুণ্ড হতে হয় অনেককেই।

কিন্তু, কাকে বলব অধিকার? তা কি এক জাতীয়ই ? না কি তারও থেকে যেতে পারে নানান মাত্রা, বহুস্তর? শিল্পের ওপরে শিল্পীর যে অধিকার আর আস্বাদকের যে অধিকার তা কি হুবহু একইরকম? না কি, অধিকারের বিচিত্র রকমফেরে সেখানেও বহুমাত্রার উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যাবে? গল্পের আমুদে পাঠকমাত্রকে কি হতেই হবে গল্পলেখক? অথবা, জানতেই হবে গল্প রচনার কৃৎকৌশল? নিদেনপক্ষে হতেই হবে গল্প-বোদ্ধা? তবে তো সাহিত্যের জাতি-বর্ণ-ভেদলোপী সুমহান পঙ্‌ক্তিভোজনে কতিপয় লেখক আর বর্ণশ্রেষ্ঠ সমালোচককুল ছাড়া কারোরই আর পাত পড়বে না। সাহিত্যের সেই অমৃতরসভোগে রসপিপাসু কাঙালির দলকে অধিকারহীন ব'লে খেদিয়ে দিলে কুললক্ষ্মীর মান থাকে কিনা জানি ন, কিন্তু, শিল্পলক্ষ্মী হতমান হন নিশ্চিতভাবেই। সেকথাটা বুঝতেন ব'লেই স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানের লীলায় শিল্পী ও শ্রোতার স্ব-স্ব অধিকারকে মান্যতা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন --"একাকী গায়কের নহে তো গান , মিলিতে হবে দুই জনে--/ গাহিবে একজন খুলিয়া গলা, আরেকজন গাবে মনে।" শ্রোতার দল সকলেই যদি খাপ খোলে তবে যে প্যাণ্ডেমোনিয়াম হবে তা জানতেন তিনি --- কিন্তু, তা ব'লে মনে মনে নিজের মতন করে গুঞ্জরণে বাধ সাধার মতন বোকামির ধার মাড়াননি রবীন্দ্রনাথ । আর সেই সুযোগেই তাঁর গানের ভুবনে আহ্বান, আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছেন আপামর সকলকেই।

সুতরাং, ধ্রুপদী-সঙ্গীত বা আধুনিক চিত্রকলা কিংবা  কাব্য বুঝতে গেলে একধরনের প্রশিক্ষণের দরকার পড়ে নিশ্চয়ই; কিন্তু, তাকে উপভোগ করতে গেলে সবসময় কোমর বেঁধে কসরতের প্রয়োজন নেই। আর আদতে কবিতা বা সঙ্গীত ততটা বোঝবার বিষয় নয়, যতটা বেজে ওঠার।

তাহলে কথাটা দাঁড়াচ্ছে যে, শিল্পরসিক বলতে কোনো সমসত্ব শ্রেণীবিশেষ বোঝায় না; বরং,  শিল্পরসভোগীরও থেকে যায়  নানাস্তর, নানান মাত্রা --- চেতনার নানালোকে তাদের পৃথক পৃথক অবস্থানভূমি। কেউ কেউ প্রশিক্ষিত, সমঝদার, দুঁদে শিল্পবোদ্ধা --- কেউ কেউ বা আমারই মতন কেবলই উপভোক্তাসাধারণ। রসায়ণের ধার না ধেরেও যাঁরা আমারই মতন রসে অনন্যমতি হয়ে আছেন।

ভেবে দেখেছেন কি, উত্তরাখণ্ড বা হিমাচলে বেড়াতে গিয়ে যখন আকাশের সীমাহীন সুনীল-সাগরে ডুবে যায় চোখ, হাঁপরের মতন থেকে থেকেই এক বুক টাটকা বাতাস টেনে নিই, তখন কি মাথায় থাকে সেই সুনীল চন্দ্রাতপ বস্তুত মস্ত এক ফাঁকি --- মহাশূন্যের বস্তুত কোনো রঙ নেই; কিংবা, কলকাতা নামক  যক্ষপুরীর এক তুচ্ছ খোদাইকরের জীবনে সহসা সেই মাতাল করা আলো নেমে আসে ট্রপোস্ফিয়ার, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার --- আকাশের আরও কোন কোন স্তর চুঁইয়ে --- সে হিসেব রাখে কোন বদ্ধ উন্মাদ !!!! মূর্তিনদীর উচ্ছল স্রোতে দেহতরীখানা ভাসিয়ে দেবার মুহূর্তে ভূগোল বইতে পড়া নদীর গতিপথের বর্ণনা বা তার উচ্চ-মধ্য-নিম্ন গতিপ্রকৃতির কথা মাথায় থাকে না অতিবড় ভূতাত্ত্বিকেরও।            

আসলে, জাগতিক বা মহাজাগতিক সৃজন, সংঘটন অথবা উচ্চাঙ্গের মানুষী শিল্পকলা  এসবই সুমহান এক সৃষ্টি। অত্যাশ্চর্য সুন্দর, অভাবনীয় রকম সুন্দর। সুতরাং, তার সামনে আমাদের সকলকেই শিক্ষা আর বৌদ্ধিক গরিমার সমস্ত শস্ত্রগুলিকে নামিয়ে রাখতে হয় প্রাথমিকভাবে। ছেড়ে আসতে হয় আমাদের শিক্ষা-অভিমানের যাবতীয় বল্কল। বিচারের, বিশ্লেষণের শল্যপ্রয়োগের সুলভ প্রবৃত্তিকে ঝেড়ে ফেলেই নতজানু হতে হয় তার সামনে। রহস্যময় সৃজনাত্মক শিল্পের কাছে আমাদের প্রথম এবং প্রধান প্রাপ্তি এক মহা-বিস্ময়ের অভিভব। যার কাছে স্তব্ধবাক হয়ে যেতে হয় প্রথম ধাক্কায়। সেই  বিরাট স্বরাটের কাছে তুচ্ছ নগণ্য মানুষ শুধুই সেরে নিতে চায় এক অবগাহন। মহতী শিল্প তাকে ভ'রে তোলে কানায়-কানায়। সাময়িকভাবে হলেও উপছে ওঠে আমাদের জীবনের ঘট। দর্শক-শ্রোতা-পাঠক --- সার্বিকভাবে উপভোক্তার দিক থেকে এর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া শুধুই এক নিঃশর্ত কৃতাঞ্জলি। এক সকৃতজ্ঞ ধারাস্নান।

প্রশ্ন উঠবে --- আস্বাদকের দিক থেকে কি তবে করার নেই কিছুই? প্রয়োজন নেই কোনো প্রস্তুতির? আছে, অবশ্যই আছে। সমস্ত পূর্বসংস্কার ফেলে রেখে আন্তরিক যাবতীয় বাধা, সংশয়, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূরে ঠেলে নিজেকে শূন্য করে তাকে শুধু দাঁড়াতে হবে কৃপাভিক্ষু হয়ে; ভরে নিতে হবে রিক্ত করপুট সেই শিল্পপ্রসাদে। তার সাধনা পুঁথিসঞ্চয়ের সাধনা নয়; বরং, নিজেকে খালি করার সাধনা --- "শূন্য করিয়া রাখ তোর বাঁশি, / বাজাবার যিনি বাজাবেন আসি।" আমি যতটুকু বুঝি --- শিল্পের সেই অমেয় প্রসাদকে গ্রহণের এ-ই একমাত্র যোগ্যতামান। সূর্যোদয়ের সংঘটনে বহুবার আমূল আলোড়িত হয়েও প্রকৃতিপ্রেমিক যেমন পরবর্তী কোনো সূর্যোদয়ের সামনে একইরকম তীব্র পিপাসা নিয়ে দাঁড়ান --- শিল্পকলার কাছেও আমাদের যেতে হবে বারেবারেই সেই আততি আর তৃষ্ণা নিয়ে। আর তৃষ্ণার নেপথ্যভূমি হিসেবে থেকে যায় যে শূন্যতাবোধ তা তো জানাই আছে আমাদের।

সুতরাং , প্রেমেরও আগে চাই প্রেমিকের মন, দরদীর উন্মুখতা। ভালোবাসবার এক আন্তরিক সদিচ্ছা। আর একইসঙ্গে ভালোবাসবার, সঙ্গ-সান্নিধ্য সাধার এক নিভৃত অবসরও। ঊর্ধশ্বাসে ছুটে চলা জীবন, ঝিঁ-ঝিঁ পোকার ডানার মতন অস্থির বেপথু জীবনে শিল্পসম্ভোগের সুযোগ নেই। এই অধমের মতন নিরবচ্ছিন্ন অখণ্ড অবকাশবিলাসী অবসরবুভুক্ষু না হোন, অন্তত, দু-দণ্ডের বিরতি ছাড়া, বিরাম ছাড়া কলা-উপভোগ আদতে সম্ভবই নয় কখনওই। তা যদি মিলে যায় তবে দেখবেন , বিমূর্ত চিত্রকলাও তার রেখার জটিলতায়, বলিষ্ঠতায়, বিচিত্র জ্যামিতিক ভঙ্গিমায় অথবা রঙের উচ্ছ্বাসে অথবা নির্লিপ্তিতে প্রাথমিক এক রণন তোলেই  আমাদের ভিতরমহলে। ক্ষণমুহূর্তের জন্যই হয়তো; তবু, সুনিশ্চিতভাবেই। এরপরেই সক্রিয় হয়ে যায় আমাদের বিচারশীল আর নানান অভিজ্ঞতায় ভরা মন। মনের যাবতীয় পূর্বসংস্কার। এসে পড়ে অধিকারী-অনধিকারের প্রশ্ন । যোগ্যতা আর অযোগ্যতার সাংসারিক বাটখারাটা বের হয়ে পড়ে। কিন্তু, সজাগ আর সচেতন হলে আপনি বুঝবেন এসবেরও আগে, মনের বাচালতা আরম্ভ হবার পূর্বক্ষণটিতে এবং ঠিক শিল্পদর্শনের অব্যবহিত পরবর্তী মুহূর্তবিন্দুটিতেই সে অবধারিতভাবেই আপনার অনুভূতির জগতে একটি দোলা দিয়ে গেছে। আপনার বোধের তন্ত্রীতে তুলেছে নিজস্ব কোনো ঝঙ্কার। মহৎ শিল্পের বেলায় সেই দান এত বিপুল, এমন অনন্য যে তা অনির্বচনীয়। আমাদের বিষয়ে জড়িত অভ্যাসক্লিষ্ট মন কাজ শুরু করবার আগেই সেই কারুণ্যধারায় স্নান সেরে ওঠে আমাদের গোপনচারী অন্তর্সত্তা। শিল্পের কাছ থেকে সে-ই আমাদের পরম পাওয়া।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শুধু এটুকুই বলতে পারি, যখন ভীমসেন যোশী মন্দ্রস্বরে আলাপ সাধেন ভৈরবীতে, কিংবা, নিখিল ব্যানার্জী বিলাসখানী টোড়িতে সুরের, স্বরের মোচড়ে ছেয়ে ফেলেন কোনো অদ্দৃশ্য অন্তরাকাশ ---- তখন নিরুপায়ের মতন, সম্মোহিতের মতন, যন্ত্রচালিতের মতন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আমি নিজেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হই সেই চরাচরব্যাপী সুরের ঝর্ণাতলায়। যেন বা পৌষালি রোদে পিঠ পেতে শুয়ে থাকা নিশ্চুপে। কিচ্ছুটি আর ভাবতে ইচ্ছা করে না --- কেবল শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই বহুবিশ্রুত কবিতার নারীটির মতোই আমিও সুরের সেই 'আকাশছেঁচা জলে' ভিজিয়ে নিই আমার 'আজানুকেশ'। সেরে নিই অদৃশ্য অথচ অতিজরুরি এক অবগাহন। তাঁদের কণ্ঠ অথবা যন্ত্রসঙ্গীতের একেকটি অবিস্মরণীয়, আকস্মিক, অভাবিত বা প্রত্যাশাপূর্ণ স্বরক্ষেপণ, সুরের বিশেষ বিশেষ পর্দার ওঠা-পড়া আমার নিজস্ব সত্তার --- এই  আমার 'আমি'র নানান স্তরকে উন্মোচিত করে দেয় আমারই কাছে। আমার একান্ত নিজস্ব অস্তিত্বেরও যে এত মাত্রা এত স্তর থেকে যেতে পারে --- আমার চেতনারও যে আছে সহস্রলোক ছোঁয়া বহুধাব্যাপ্তি, স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল-প্রসারী বিপুল চরাচর --- সে যে নাম-ধাম-কর্মের সঙ্কীর্ণ, অতিসংক্ষেপিত নগণ্য, তুচ্ছ উপস্থিতির চেয়েও অনেক বড়  প্রায় বিরাট-স্বরাট এক অস্তি --- এই অতিগোপন অথচ নিতান্ত প্রয়োজনীয় সংবাদ নয় শুধু, বরং, বলা ভালো সংবেদনা নিয়ে আসে ধ্রুপদীসঙ্গীতের মূর্ছনা। অন্তত আমার কাছে। একান্ত নিজস্ব অনুভবে। তার অলৌকিক অবরোহের বিপরীতে নিজের সবটুকু মেলে দিয়ে বসে থাকি। যেমন করে রৌদ্রকরোজ্জ্বল নভোমণ্ডলের  দিকে পরতে পরতে নিজেকে মেলে দেয় শতদল -- তাতেই তার অস্তিত্বের সবটুকু সার্থকতা।

জন্মলালিত সংস্কারে কতকাল জেনে এসেছি যে, দেহের মধ্যে থাকে চেতনা-চৈতন্য; আর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে স্নাত হতে হতে অভিজ্ঞতায়, অনুভবে জেনেছি যে সে জানা ছিল মস্তবড় ভুল। বরং, আমার চেতনাগত অস্তিত্বের বিরাট এক বলয়ের মাঝেই রয়ে গেছে ক্ষুদ্র এই দেহের দেহলি। তা যদি না হবে, তবে, সাড়ে তিনহাত জায়গাই অতিপ্রশস্ত হত মানুষী অস্তিত্বের জন্য --- শ্বাসফেলার , হাঁফছাড়ার জন্য আকাশ আর দিগন্তের প্রয়োজনই ঘটত না মানুষের কখনও। উচ্চাঙ্গের সঙ্গীত কিংবা শিল্পকলা এমনি করেই আমাকে ঋদ্ধ করে এক অদেখা অচেনা বৃহৎ, মহৎ  আমিকে দেখিয়ে চিনিয়ে দিয়ে। ঘটিয়ে দেয় অভাবিতপূর্ব এক আত্মসাক্ষাৎকার। পরিপ্লুত হই তখন এক অত্যাশ্চর্য  সামগ্রিকতা আর সম্পূর্ণতার বোধে। নশ্বর মনুষ্যজীবনে এর চাইতে বড় পাওয়া আর কিছু আছে ব'লে আমার অন্তত জানা নেই।

সুতরাং, 'সান্ধ্য জলপাইগুড়ি'র পৃষ্ঠায় চারুকলা বিষয়ক দু-দুটি সম্পাদকীয় যেন তার পাঠককে দিতে চায় কোনো এক গূঢ় বার্তাই। ক্রমাগত খাটো হতে হতে মানুষের বামন এমনকি কীটানুকীটসদৃশ অস্তিত্বই যেখানে দৃশ্যত সুলভ হয়ে উঠছে দিনে দিনে; প্রতিদিনের সংবাদপত্রে , গণ এবং সামাজিক মাধ্যমে তার নতুনতর কল্পনাতীত নমুনা দেখতে দেখতে যখন স্নায়ুরোগে কম-বেশি পীড়িত হওয়াকেই স্বাভাবিক ব'লে ধরে নিচ্ছি আমরা , ঠিক তখন এমন দুটি তর্পণ এবং অঞ্জলি যেন আমাদের মুখ ফেরাতে চাইছে অন্যদিকে।যেন এই লেখাদুটি ঘুম ভেঙে উঠে নতুন করে নিতে বলছে আত্মপরিচয়ের চারুপাঠ। হাতে তুলে দিতে চাইছে আলিবাবার এক গুপ্তভাণ্ডারের গোপন চাবিকাঠি। সম্পাদকীয় শঙ্খে পিপুফিশো শুনতে পেয়েছে সেই সমুদ্রের আহ্বান।

 

 

 সূচিপত্রে যান

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছোটগল্পঃ শর্মিলার খোঁপা। সোমঋতা রায়।

ছবিতে নারী, নারীর ছবিঃ শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়। দশম পর্ব।