সম্পাদকীয়ঃ প্রথম বর্ষ। ২৯ সংখ্যা। জুন ২৫, ২০২২

সম্পাদকীয় 


 
 

 

 

 

হাস্যকর পরীক্ষা-পদ্ধতি

 

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যা চলছে তা বেদনাদায়ক। কোন পরীক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি নির্ধারণ করতে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়াটা হাস্যকর। পরীক্ষার্থীরা কখনোই পরীক্ষার নীতি নির্ধারক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পরিচালন কমিটি-র ব্যর্থতা এই ক্ষেত্রে প্রকট। এই ব্যর্থতার কারণ নির্ণয় করা দরকার।

এমন নয় যে পরীক্ষার্থীরা অনলাইন পরীক্ষার দাবীতে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও করে ভিসি-কে আটকে রেখেছিল। এই ঘটনা যেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছিল তারা কিন্তু পরীক্ষার্থীদের দাবী মেনে নেয় নি। বস্তুতঃ রাজ্যের আর কোনও বিশ্ববিদ্যালয় এই ‘অনলাইন পরীক্ষার’ দাবী মেনে নিয়েছে বলে জানা নেই। যদি সরকারের তরফ থেকে চাপ থাকত তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি অনলাইন পরীক্ষার দিকেই ঝুঁকত, কিন্তু বাস্তবে তা হয় নি। সুতরাং সরকারের চাপে বা ইচ্ছায় কিংবা আন্দোলনের চাপে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় একটি হাস্যকর ‘অনলাইন পরীক্ষা’ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অনুমান করা যায় কোন অজ্ঞাত চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তারা বাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় উলটো পথে হেঁটেছে। এমনিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সবটুকুই শাসক দলের হাতে। এক্ষেত্রে সুপরিকল্পিত পরীক্ষা গ্রহণ-ই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা হয় নি, এবং যা হচ্ছিল তা উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ডোবানর পক্ষে যথেষ্ট।

বর্তমান সংখ্যায় এই বিষয়ে একটি রচনা ‘টৌন জলপাইগুড়ি’ অংশে প্রকাশিত হলো। সেখানে ‘অনলাইন’ প্রহসনের বিষয়টি বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে।

এইসব অবিলম্বে থামা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে আমরা এসব আশা করি না। ওটা উচ্চশিক্ষা এবং যুক্তিবোধের জায়গা।

 

সূচিপত্রে যান

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

গানের লীলার সেই কিনারেঃ শুভময় ঘোষ

ছোটগল্পঃ শর্মিলার খোঁপা। সোমঋতা রায়।

হুকার, হজসন, হোলিঃ সুপ্রিয় ঘটক