টৌন জলপাইগুড়িঃ ভূতুড়ে পরীক্ষানীতির উৎস সন্ধানে


'পহেলে ইয়ে সমঝানো কা কৌসিস করো কি আগার তুমি অনলাইন আউর অফলাইন খাড়া আছ। তার পর ঘুসো।'
 

 টোন জলপাইগুড়ি

ভূতুড়ে পরীক্ষানীতির উৎস সন্ধানে

কদমতলা বর্মন

 

ইউনিভার্সিটির আন্ডার গ্রাজুয়েট সেমিস্টার পরীক্ষা দেওয়ার কিছু ছবি বিভিন্ন সমাজ মাধ্যম ও সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়ছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ছাত্র ছাত্রীরা রাস্তা সরকারি অফিস পার্ক রেস্টুরেন্ট শপিং মলের বারান্দায় বসে বই খুলে মোবাইলের সাহায্য নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। খবরে বলছে, ‘অনলাইন’ পরীক্ষায় ‘গণ টুকাটুকি’ চলছে যাতে শহরের জাত ও মান দুই গেল! টাউনের সম্মান শিক্ষার পরিবেশ গেল গেল রব উঠছে। এই হল প্রাক কথন। 

সোশ্যাল মিডিয়া কেবল সত্য তাহার ওপর প্রেস! অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া আর প্রেসের বাইরেও একটা পৃথিবী আছে। তাঁদের দেখানোর বাইরেও কিছু বাস্তবতা আছে। সেই দিকগুলো নিয়ে একটু কথাবার্তা হতেই পারে, বিশেষ করে যেখানে কোনো শহরের মান সম্মান শিক্ষার পরিবেশ জড়িত। 

প্রথমেই আসা যাক অনলাইন অফ লাইন প্রসঙ্গে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ২৩ মে যে নোটিশটি জারি করেন সেখানে বলা হয়, পরীক্ষা হবে ‘ব্লেন্ডড মোড’ এ। অর্থাৎ, সব থিওরিটিক্যাল পরীক্ষা হবে তথাকথিত ‘অনলাইন’ মোডে, প্র্যাকটিক্যাল আর ইন্টারনাল হবে ‘অফলাইন’ মোডে। এবার অনলাইন মোডে পরীক্ষা বলতে নর্থবেঙ্গল ইউনিভার্সিটি কী বোঝাতে চেয়েছেন? পরীক্ষার ঠিক এক সপ্তাহ আগে ছাত্রছাত্রীদের কলেজে এসে পরীক্ষার জন্য ইউনিভার্সিটির ছাপ দেওয়া খাতা, লুজ সিট সংগ্রহ করতে হয়, (খেয়াল রাখুন কলেজে এসে)। ২২ মে শুরু হয় দুই বেলা পরীক্ষা। ১০ থেকে ১২ টা অন্য হাফ ২-৪ টা। এই পরীক্ষা শেষে খাতা জামা দেওয়ার সময় যথাক্রমে ১২-২ এবং  ৪-৬ টা। খাতা নিজের কলেজেই জমা দিতে হবে। ঠিক দশটা ও দুটোর সময় ইউনিভার্সিটি তার নিজস্ব পোর্টালে সেদিনের পরীক্ষার প্রশ্ন প্রকাশ করে। ছাত্ররা ফোন বা কম্পিউটারে প্রশ্ন পেয়ে লেখা শুরু করে। এই প্রশ্ন আপলোড করা টুকু বাদ দিয়ে, না ছাত্রদের না ইউনিভার্সিটি কারোই কিন্তু ‘অনলাইন’-এর সাথে বস্তুত কোনো সম্পর্ক নেই। ২৩ মে র নোটিশে মোটা কালো হরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পরীক্ষার খাতা কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়কে মেইল করলে তা গ্রাহ্য হবে না, বাতিল বলে গণ্য হবে। (এই কথা বলার কারণ, গত বছরগুলোতে পরীক্ষার খাতা মেইল করার ব্যবস্থা ছিল)। এবার আবার তেইশে মে-র নোটিশের সেই শব্দটার কাছে ফিরে যাওয়া যাক, ‘ব্লেন্ডড মোড’, যার অর্থ দাঁড়ায়, পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কলেজের দরজা যখন ছাত্রদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ইন্টারনাল ও প্র্যাকটিক্যালের জন্য সেটা ‘অফলাইন’ আর ক্লাস ঘর ছাড়া অন্য যেখানে খুশি বসে পরীক্ষা দেওয়ার নাম ‘অনলাইন’। মাথায় রাখার বিষয়, খাতা নেওয়া ও জমা দেওয়ার সময় কিন্তু ছাত্রকে শারীরিক ভাবে কলেজ উপস্থিত থাকতে হবে। তারপরও অনলাইন! 

এরপর প্রশ্ন উঠতেই পারে তারপরও কেন ছাত্ররা রাস্তা-মাঠ-ঘাট, পার্ক, সরকারি অফিসে বসে পরীক্ষা দিচ্ছেন? বিরক্তিকর হলেও আবার ফিরে যেতেই হবে সেই ২৩ শে মে-এর নোটিশের দ্বিতীয় পয়েন্টে। সেখানে বলা হয়েছে পরীক্ষা শেষের ঠিক দুই ঘণ্টার মধ্যে উত্তরপত্র কলেজে জমা করতে হবে। এবার একটু ছাত্রদের জায়গায় নিজেকে বা নিজের বাড়ির ছাত্রটিকে বসিয়ে দেখা যেতে পারে। যে ছাত্রটির বাড়ি বাড়ি ভগৎপুর চা বাগানের কুলি লাইনের ভেতরে সে চারটার সময় বাড়ি বসে পরীক্ষা দিয়ে তা শেষ করে ছয়টার মধ্যে মালবাজার কলেজে পৌঁছতে পারবে এমন কথা নিশ্চয়তার সাথে বলা যায়? সরস্বতীপুর চা বাগানের সিক্সথ সেমে-র মেয়েটি বিকেল চারটার পর তার কলেজে পৌঁছতে পারবে? এগুলো ছেড়ে দিলেও বলা যায়, জলপাইগুড়ি শহরের কোনো কলেজের ছাত্রর বাড়ি যদি হলদিবাড়ি হয় সে কী করবে? আমাদের বাড়ির ছাত্র হলে কী করতাম? মনে রাখতে হবে একটি ছাত্র ৩০-৪০ কিমি দূর থেকে যখন কলেজ করতে আসে সেটা কিন্তু কলেজ বাড়িটার ভরসায়, যেখানে সে ঝড় বৃষ্টি তাপ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য একটা ক্লাসরুম আলো, ফ্যান, বসার জায়গা পায়। বাইরে থেকে আসা একটি ছেলে বা মেয়ে শহরে কোথায় বসে পরীক্ষা দেবে? সকালের তো আর আত্মীয়র বাড়ি থাকে না। তাই বাধ্য হয়ে চায়ের দোকান, সরকারি অফিস, রেস্টুরেন্ট (পকেটের জোর থাকলে), বড় রাস্তার ধারের মাঠ, বন্ধ প্রাইমারী স্কুলের বারান্দা, হাইওয়ের পাশে ফাঁকা মাঠে পরীক্ষা দিচ্ছে। মনে রাখতে হবে, কলেজের ক্লাস রুমের দরজা কিন্তু পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কলেজগুলো খুলে দিতে পারেনি। যেহেতু শব্দটা অনলাইন পরীক্ষা।

তাছাড়াও অন্য একটি সমস্যা আছে, পরীক্ষা দেওয়ার সময় দুই ঘন্টা। খাতা জমা দিতে হবে ধরুন, ৪-৬ এর মধ্যে। অর্থাৎ যে ছয়টা বাজতে পাঁচ মিনিট আগেও খাতা জমা দিতে আসবে (ইউনিভার্সিটি ধরে নিচ্ছে যে সে তার অনেক দূরের বাড়ি থেকে আসছে) তার খাতা নিতে কলেজ বাধ্য। অর্থাৎ সেই সুযোগে তারা কলেজের পাশে রাস্তায় বসে পরীক্ষার সময় পেরিয়ে আরো প্রায় দুই ঘন্টা ধরে লিখছে। ‘অনলাইন’ নামক ব্যবস্থায় এর নজরদারি করা মুশকিল না শুধু, না মুমকিন হ্যায়। অর্থাৎ দুই ঘণ্টার পরীক্ষা চার ঘন্টার হয়ে যাচ্ছে, এটা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা আগের বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝেননি? 

এবার ধরা যাক, সেকেন্ড হাফে যদি কারো সিক্সথ সেমের পরীক্ষা থাকে আর সেই ছাত্রটির অন্য আগের সেমে ব্যাক থাকে, নিয়ম অনুযায়ী সে ফার্স্ট হাফে অর্থাৎ ১০-১২ টা ব্যাক সাবজেক্ট-এর পরীক্ষা দেবে। অর্থাৎ, ব্যাক সাবজেক্ট-এর পরীক্ষা দিয়ে বেলা দুটোয় লাইন দিয়ে সঠিক কাউন্টারে খাতা জামা দিয়ে আবার সেকেন্ড হাফ পরীক্ষা দিতে হবে।

এবার ওই ছেলে/মেয়েটির বাড়ি যদি কলেজ থেকে তিরিশ বা চল্লিশ কিমি দূরে হয়, বা প্রত্যন্ত গ্রামে হয় সে কি বাড়িতে বসে পরীক্ষা দিয়ে খাতা জামা দিয়ে আবার বাড়ি ফিরে সেকেন্ড হাফ লিখতে বসবে? আবার ছয়টার আগে চল্লিশ কিমি দূরে এসে খাতা জামা দেবে? নিশ্চয়ই না। তাহলে তাকে কলেজের কাছাকাছি কোনো জায়গায় সে রাস্তা হোক ভাড়া করা চায়ের দোকান হোক না রেস্তোরাঁ হোক কোথায় বসে পরীক্ষা দিতে হবে। এটা বাস্তবতা। 

তারপরও ধরা যাক, বাড়িতে পরীক্ষা দেওয়ার মত ইন্টারনেট  পরিকাঠামো  উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে যে কলেজগুলো আছে আর সেই কলেজে ছাত্ররা যে সব অঞ্চল থেকে আসে সেই সব অঞ্চলে আছে? যেখানে সে নিশ্চত ভাবে বলতে পারবে যে সময় মত প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করতে পারবে? লাটাগুড়ি জঙ্গলের ভেতরের বনবস্তির ছাত্রটি কী ভাবে প্রশ্ন ডাউনলোড করবে? আপনি কি প্রমোদ ভ্রমণে লাটাগুড়ি হয়ে জঙ্গলের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক পান? 

মনে রাখতে হবে যে, এই পরীক্ষাটি কিন্তু ৬০ নম্বরের, বাকিটা প্র্যাকটিক্যাল বা ইন্টারনাল নিয়ে আরো ১৫ নম্বর। মোট ৭৫। থিওরি অর্থাৎ রাস্তায় বসে বই দেখে লিখিত পরীক্ষায় যদি ৬০ এ ৬০ ও পায়, অন্যদিকে ইন্টারনাল বা প্র্যাকটিক্যালে ফেল করলে কিন্তু ফেল। 

এবার থাকলো বই দেখে লেখা! বেশি নয় সামান্য একটু অতীতের কথা বলা যাক, গত দুই থেকে তিন বছর আগে দফায় দফায় এই ইউনিভার্সিটিই ‘অনলাইন’ নামক পরীক্ষাটি এভাবে নিয়েছিল, যে একজন ছাত্র কলেজ থেকে বা নেট থেকে খাতা নেবে, পরীক্ষার দিনগুলোতে যথা সময়ে ইন্টারনেট-এ প্রশ্ন পেয়ে যাবে বাড়ি বসে লিখবে তারপর হয় সেই খাতাটা মেইল করবে বা সব পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে সব কয়টি পেপারের খাতা ইউনিভার্সিটি-নির্দিষ্ট দিনে এসে জমা দিয়ে যাবে। অর্থাৎ, প্রথম পরীক্ষা দেওয়ার পাঁচ সাত দিন পর সে খাতাটি জমা দেবে। এই পাঁচ সাত দিন ধরে খাতাটি ছাত্রের বাড়িতেই থাকবে। ইউনিভার্সিটি ধরেই নিচ্ছে সে দেখে লিখবে না। এ ভাবনা শুধু হাস্যকর না, পৃথিবীর যে কোনো স্ট্যান্ড আপ কমেডিকে হার মানাবে। এবছর সমস্যার জায়গাটা হয়েছে অন্যত্র। এ বছরের নোটিশ অনুযায়ী পরীক্ষা শেষের দুই ঘণ্টার মধ্যে খাতা জমা দিতে হবে। এ বছর সময় কম, তাই রাস্তায় বাজারে দোকানে তাদের বই খুলে টুকতে দেখা যাচ্ছে। এই বই দেখে লেখাটা গত বছরগুলোতে সে বাড়ি বসে লিখত, খাতা জমা দেওয়ার কোনো তাড়া ছিল না। এবার তাহলে প্রশ্ন ইউনিভার্সিটি কি জানে না যে এই ব্যবস্থা হলে ছাত্ররা দেখে লিখবে, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? ছাত্ররা এমন সুযোগ পেয়েও বই দেখে লিখবে না, বা বাইরের সাহায্য নেবে না এটা ভাবলো কী ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়? ছাত্রদের নীতি শিক্ষার ওপর এতটা আস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের? আন্ডার গ্রাজুয়েট পরীক্ষা দেওয়া কিছু ছাত্র তো উচ্চ শিক্ষার জন্য এই পরীক্ষার রেজাল্ট সিটটা নিয়েই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে যাবে (বিশেষ করে যে ইউনিভার্সিটি গুলোতে প্রবেশিকা পরীক্ষা নেই)! এবার পাশের বন্ধু যখন বই খুলে হুবহু টুকবে অন্য ১৮ বা ২০ বছরের আরেকটি বন্ধু শুধু নীতিগত প্রশ্নে বই দেখে লিখবে না সেটা সত্যি সম্ভব? কারণ সব বাদ দিলেও এই মার্কসিটের নাম্বারের ভিত্তিতেই পয়েন্ট এর এদিক ওদিক হলে ইউনিভার্সিটি ভর্তির মেধা তালিকা থেকে ছিটকে যাবে। এবার এই ছাত্রগুলোর মুখের সামনে বুম ধারার আগে নিজের নীতি পুলিশ/নীতি সাংবাদিক সত্ত্বা সরিয়ে রেখে ভাবুন তো, ওদের জায়গায় আমি আপনি হলে কী করতাম! এই ছাত্রগুলো কিন্তু কলেজ বন্ধের কারণে দুটো সেমিস্টার বাড়ি বসে পরীক্ষা দিয়েছে। বলা ভালো, তারা মহামারী-রাজনীতির শিকার। এমন ভাবে সোশ্যাল মিডিয়া, প্রেসে সুকৌশলে বোঝানো হচ্ছে যে ছাত্ররা বই খুলে রাস্তায় বসে পরীক্ষা দিচ্ছে আর শহর যেন রসাতলে ডুবে যাচ্ছে। অর্থাৎ, গত দুই বছর যখন এই ইউনিভার্সিটি বাড়িতে বসে লেখো প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল তখন যেন শিক্ষার শীর্ষ আমরা স্পর্শ করেছিলাম!

এ কথা বলার অর্থ কখনোই এই বই দেখে লেখা সমর্থন করা না, প্রত্যাশা কলেজের ক্লাস রুমের দরজা ছাত্রদের জন্য খুলে দেওয়া, নজরদারিতে পরীক্ষা ব্যবস্থা করা। 

আর থাকলো ছাত্র আন্দোলন! কতজন ছাত্র অনলাইন চেয়ে আন্দোলন করেছিল? আপনার বাড়ির ছেলেটি বা মেয়েটি গিয়েছিল আন্দোলনে?  যদি ধরেও নিই যে তারা অনলাইন পরীক্ষা চেয়েছিল। কলকাতা রবীন্দ্র ভারতী যাদবপুর কিন্তু আন্দোলন সত্বেও ছাত্রদের এই অনলাইন দাবির কাছে মাথা নিচু করেননি। সন্তানের অন্যায্য দাবির কাছে অভিভাবক যদি সর্বদা ভীত হয়ে মাথা নত করে তার ফল তো ভুগতেই হবে। ইউনিভার্সিটির  ‘আত্মপক্ষ’ সমর্থন থেকে ‘ছাত্রস্বার্থ’ সমর্থন জরুরী ছিল।

পুনশ্চ:

এই পর্যন্ত লেখার পর ২৪ জুন তারিখ বিকেল ৪ টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান, ২৮ জুন থেকে কলেজে বসে ছাত্ররা পরীক্ষা দিতে পারবে। এখানেই শেষ না, বলা হল, পরীক্ষার হলে ছাত্র ব্যতীত আর অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। ( The persons other than the examinees of the day shall not be owed to enter the college campus) ঠিক এই ভাষায়। শিক্ষকরা কলেজে প্রবেশ করতে পারবেন? তার কিছুক্ষণ পর আবার কলেজগুলো মেইল পেল ইউনিভার্সিটির তরফ থেকে, এই বিজ্ঞপ্তি আদেশ নয় অনুরোধ, এর পেছনে কোনো বাধ্যতা নেই। তাহলে কি এবার ২৮ তারিখ থেকে ছাত্ররা কলেজের বাইরে ও ভেতরে দুই জায়গায়ই পরীক্ষা দিতে পারবে? 

তাহলে যা দাঁড়ায়, ১০ ই মে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় পরীক্ষা ‘অফ লাইনেই হবে’। তার ঠিক ১৩ দিন পর ২৩ মে বলা হয় পরীক্ষা ‘অন লাইনে’ (ব্লেন্ডড মোড) হবে। ২৪ জুন বলা হয় ছাত্রদের জন্য কলেজের ঘর খুলে দেওয়া হবে। ২৪ থেকে ২৮ নিশ্চয়ই আরো অন্তত হাফ ডজন বিজ্ঞপ্তি বেরোবে নানা রকম নির্দেশ-অনুরোধ করে। এবার কী ভাবে পরীক্ষা হবে সে সম্পর্কে এখনই অনুমান করা অসম্ভব। কিন্তু বিজ্ঞপ্তিগুলো একত্রিত করে ISBN নম্বর সহযোগে একটা পরীক্ষা নিয়ে যে কয়েক ফর্মার ‘বিজ্ঞপ্তি সংকলন’ যে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, এ বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনো গদ্যের উপসংহার টানা অসম্ভব। শুধু ছাত্র নয় ইউনিভার্সিটি নিয়ে লেখালেখি করা সমস্ত কলমচিকে দৌড় করিয়ে ক্লান্ত করে দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি। এই লেখার তাই কোনো উপসংহার নেই। শুধু বলার—

এর বাইরে থাকল বৃহত্তর রাজনীতি, যা অন্য পরিসরে আলোচনার। ‘মহামারী ও শিক্ষার হাল হকিকৎ’ নিয়ে নিশ্চয়ই আন্তর্জাতিক না হোক একটা জাতীয় স্তরের সেমিনার এই ইউনিভার্সিটিতেই শিগগিরি অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন না হয় কোনো সাংবাদিক তাঁর ‘বুম’টি ছাত্রদের দিকে তাক না করে সেমিনারে বক্তব্য রাখতে আসা নীতি নির্ধারক কোনো শিক্ষাবিদকে তাক করে জিগ্যেস করবেন, পুরো টাকা দিয়ে ‘ফর্ম ফিল ইন’ করেও কেন ছাত্ররা এ বছর রাস্তায় বসে পরীক্ষা দিল বা দুই দিন পর হঠাৎ নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেনই বা বৃষ্টির অজুহাতে কলেজের ক্লাসরুম খুলে দিয়ে শিক্ষকদের নজরদারি বিহীন পরীক্ষার ব্যবস্থার আয়োজন করলেন? 

 

সূচিপত্রে যান

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

গানের লীলার সেই কিনারেঃ শুভময় ঘোষ

ছোটগল্পঃ শর্মিলার খোঁপা। সোমঋতা রায়।

ছবিতে নারী, নারীর ছবিঃ শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়। দশম পর্ব।