ছবিতে নারী, নারীর ছবিঃ শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়। দশম পর্ব।



ছবিতে নারী এবং নারীর ছবি

শ্রেয়সী গঙ্গোপাধ্যায়

 

দশ

 

"Impressionism has produced ... not only a new but a very useful way of looking at things." - Morie Bracquenond.

 

ছবি দুনিয়ায় ত্রিমাত্রিকতা হতে সরে আসার একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল। সময়টা ১৮৬৫ থেকে ১৮৮৫। ত্রিমাত্রিকতা হতে সরে দ্বিমাত্রিক বিন্যাসে ছবিকে প্রকাশ করার একটা চেষ্টা ধরা পড়ছিল সমকালীন শিল্পীদের মধ্যে। ক্লদ মোনে ১৮৭২ সালে আঁকলেন অন্তরমুদ্রা সূর্যোদয়। যেখানে সূর্যোদয়ের একটা চিত্রের বদলে মুখ্য হয়ে ধরা দিল সেই সূর্যোদয়ের ইম্প্রেশন অর্থাৎ কেবল দেখায় আর আটকে রইল না। দেখার পাশাপাশি ছবির ক্ষেত্রে যুক্ত হলো মন, মনন, কল্পনা সর্বোপরি স্মৃতি। এই সেই ছবি যার থেকে পুরো দ্বিমাত্রিকতার দিকে ঝুঁকে পড়া একটা প্রতিষ্ঠান বিরোধী আন্দোলনকে নামকরণ করা হলো অন্তরমুদ্রাবাদ বলে। অন্তরমুদ্রাবাদ একটা সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল পরবর্তী আর্ট মুভমেন্ট গুলোতে। এই কিছুদিন আগেও ২০১২ সালে প্যারিসে একটি এক্সিবিশন হয়ে গিয়েছে অন্তরমুদ্রাবাদের ওপর। ‘ইম্প্রেশনিজম এবং ফ্যাশন’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীটি প্যারিসের Musce d'orsay তে হয়, যেখানে ১৮৬৫ থেকে ১৮৮৫ সালের শিল্পীদের ৬০টি প্রধান কাজকে রাখা হয় যা অন্তরমুদ্রাবাদকে তুলে ধরে, প্রকাশ করে, করে উদযাপন। অন্তরমুদ্রাবাদে একটা জাপানি শৈলির প্রতি ঝোঁক লক্ষ্য করা যায়। ১৮৫০ সাল। সদ্য জাপান থেকে তখন ইউরোপে আসা শুরু করেছে দ্বিমাত্রিক কাঠ খোদাই করা ছবিগুলো। জাপানে তখন কাজ করছেন  কাটসুশিকো হাকুশাই। এই পদ্ধতির নতুন বিন্যাস মুগ্ধ করে ইউরোপীয় শিল্পীদের। ছবির প্রকাশভঙ্গিমায় তাই উঠে আসে দ্বিমাত্রিকতা। ছবির বিষয় হয়ে ওঠে নিজের মনের সংকেতগুলোকে লিপিবদ্ধ করার হাতিয়ার। যা দেখছি তাকেই দেখাবো? নাকি যা ভাবছি তার প্রতিফলন ঘটবে! ইত্যাদি নানান প্রশ্নের সম্মুখীন দাঁড় করিয়ে দেয় অন্তরমুদ্রাবাদ। অন্তরমুদ্রাবাদের চলনে তাই একটা ভিতর দিকের টান অর্থাৎ অন্তর্মুখী অভিগমন লক্ষ করা যায়। আর এই পথে হেঁটে অন্তরমুদ্রাবাদ হয়ে ওঠে প্রকাশের একটা অনন্য পন্থা। যেখানে স্মৃতি একটা বড় ভূমিকা পালন করে।

অন্তরমুদ্রাবাদের সময় মেয়েরা ছবি এঁকেছেন যখনই তখনই এই আর্ট মুভমেন্টে নিজেদের অবদান রেখেছেন আবার নিজেদের অন্তর্গত মননকে খুঁড়েও দেখেছেন।

 

বার্থে মরিসট (১৮৪১-৯৫) -  ১৮৭৪এ নাদালের যে প্রদর্শনী করলেন ফ্রেঞ্চ চিত্রী মরিসট সেখানেই তাঁর ছবির অন্তরমুদ্রার বৈশিষ্ট্য সকলের সামনে এনেছিলেন। তাকে ক্রিটিকরা বলেছেন যথার্থই ‘ওয়ান রিয়েল ইম্প্রেশনিস্ট ইন দিজ গ্রুপ’। টু সিস্টার, রিডিং বিশেষত হাঙ্গিং দ্য লন্ড্রি আউট টু ড্রাই, দ্য বাথ, বিফোর দ্য মিরর তাঁর অন্তরমুদ্রাবাদের প্রকাশে ভাস্বর। তাঁর রেখার দাপট এবং কম্পোজিশন এর মধ্যে যে সংশ্লেষ তা এককথায় অনন্য। লাইনের ব্যবহারে প্রভাব দেখা যায় জাপানিজমের।

 

মেরি ক্যাস্যাট (১৮৪৪-১৯২৬) -  আমেরিকান চিত্রী মেরি ছিলেন  অন্তরমুদ্রাবাদের এক প্রধান শিল্পী। মেরির বেশিরভাগ ছবি মেয়েদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনের উত্থান পতনের। ১৮৪০ এ, সে সময় নারীবাদী আন্দোলন চলছে আমেরিকায়। ম্যারিও সেই আন্দোলনে শরিক। তার 'নিউ ওম্যান' একটি সার্থক রূপায়ন। তাঁর ছবির মধ্যে দ্য রিডার, ইন দা বক্স, চিল্ড্রেন অন দ্য বিচ, ইয়ং মাদার সুইং ছবিগুলো ইম্প্রেশনিজমের সম্পদ। ১৮৯৪ সালে মেরির আঁকা 'সামার টাইম' ছবিটি দেখলে ইম্প্রেশনিজমের চলনকে অনেক স্পষ্ট ভাবে উপলব্ধি করা যায়। (ছবি - ৩৭)

 

 

ছবি – ৩৭

 

হারিয়েট ব্যাকার (১৮৪৫-১৯৩১) -  নরওয়েজিয়ান চিত্রী  ব্যাকার খুব বেশি কাজ না করলেও তার ১৮০টির মত কাজ তাকে প্রতিষ্ঠা এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। 'সলিটিউড' নামক ছবি দিয়ে প্রথম প্রদর্শনী শুরু করেন। পরবর্তীতে তার একাধিক ছবি প্রদর্শিত হয়। ব্যাকারের ছবিতে মূলত ঘরের অন্তর দৃশ্য রচনা হয়েছে যার আলোছায়ার প্রকাশ ও ডেপথ চোখে পড়ার মতো এবং শিক্ষনীয়। তার ছবি রিয়ালিজম হতে আস্তে আস্তে সরে অন্তরমুদ্রাবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার সাক্ষ্য বহন করে।

 

মেরি ব্র্যাকমন্ড (১৮৪০-১৯১৬) -  ফ্রেঞ্চ চিত্রী মেরি ছিলেন অন্তরমুদ্রাবাদের অন্যতম পুরোধা। আগস্ট ভেসরের কাছে শুরু করেন শিল্প শিক্ষা। তাঁর বেশিরভাগ বিখ্যাত ছবিগুলি আউটডোর পেন্টিং। ১৮৭৯,৮০ ও ৮৬ সালের ইম্প্রেশনিস্ট আন্দোলনে যোগ দিয়ে ছবি প্রদর্শিত করেন। তাঁর ওম্যান উইথ দা আমব্রেলায় জাপানি শৈলির ছাপ স্পষ্ট। আন্ডার দ্য ল্যাম্প ইম্প্রেশনিজম এর অন্যতম ছবি।

 

হান্না পাওলি (১৮৬৪-১৯৪০) -  সুইডিশ চিত্রী পাওলি মূলত এঁকেছেন প্রতিকৃতি। তাঁর বেকফাস্ট টাইম, জেরডা উল্লেখযোগ্য কাজ। ইম্প্রেশনিস্ট প্রতিকৃতি শিল্পীদের মধ্যে পাওলির কাজ গুলো অন্যতম।

লিলা ক্যাবট পেরি (১৮৪৮-১৯৩৩) -  আমেরিকান চিত্রী পেরি মূলত নিসর্গ দৃশ্য ও প্রতিকৃতি এঁকেছেন। পেরি মোনেটের কাজ দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন। নানান জায়গায় ঘুরে তিনি ছবির কাজ করেন ফলে তাঁর ছবিকে বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ করা যায়। ইউরোপের বাইরে অন্তরমুদ্রাবাদকে ছড়িয়ে দিতে পেরির ভূমিকা উল্লেখ্য। তাঁর জাপান যাত্রা ও সেখানে তিন বছর শিল্পচর্চা ওরিয়েন্টাল আর্টের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া সবই অন্তরমুদ্রাবাদকে সমৃদ্ধ করে। মার্গারেট উইথ আ ভায়োলিন, স্ট্রিম বিনিথ পপলার মাউন্ট ফুজি একাধিক ছবি, দ্যা  ট্রাও, অটাম আফটারনুন তাঁর কাজের মধ্যে অন্যতম। (ছবি - ৩৮)

 

 

ছবি - ৩৮

অ্যাডমা মারিসট (১৮৩৯-১৯২১) -  ফ্রেঞ্চ চিত্রী মরিসট বার্বিজন স্টাইলে আকৃষ্ট ছিলেন। বোন বারথেকে কেন্দ্র করে একাধিক ছবি করেছেন। মূলত অ্যাডমা করেছেন প্রতিকৃতি। তবে ল্যান্ডস্কেপগুলোও অন্তরমুদ্রাবাদের সাক্ষী।

জুলি মানে (১৮৭৮-১৯৬৬) -  তাঁর ডাইরি "গ্রোয়িং আপ উইথ ইম্প্রেশনিস্ট" একটি উল্লেখযোগ্য সময়ের দলিল। ছবিতে তাই স্বাভাবিকভাবেই অন্তরমুদ্রাবাদের চলন ও লক্ষণগুলো ধরা পড়েছে। ছোট থেকে অন্তরমুদ্রাবাদীদের সঙ্গে কাটানোয় তাঁর মনোজগতে অন্তরমুদ্রাবাদ নিয়ে একটা সুচিন্তিত প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

লরা মুন্টজ লাইল (১৮৬০-১৯৩০) -  কানাডিয়ান চিত্রী লাইল ওন্টারিও স্কুল অফ আর্টে ছবি আঁকা শেখা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি রয়াল কানাডিয়ান একাডেমি অব আর্টসে নির্বাচিত হন  এবং প্রথম মহিলা হিসাবে এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে ১৮৯৯ সালে নির্বাচিত হন। তাঁর ওরিয়েন্টাল পপিস, ইয়ং গার্ল হোলডিং ড্যাফোডিলস, ট্রিস বাই দ্য রিভার ছবি গুলো অন্যতম।

হেলেন ম্যাকনিকোল (১৮৭৯-১৯১৫) -  কানাডিয়ান চিত্রী হেলেন কানাডায় অন্তরমুদ্রাবাদকে প্রচলিত করেন। মূলত এঁকেছেন নিসর্গ চিত্র ও নারী বিষয়ক ছবি। তাঁর আলোছায়ার ব্যবহার এবং সাদামাটা বিষয় ভাবনা ছবিকে অন্য এক চরিত্র প্রদান করে। অ্যাপেল গেদারার,  পিকিং  ফ্লাওয়ার্স, দা ওপেন ডোর অথবা আন্ডার দ্য শ্যাডো অফ টেন্ট তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের উদাহরণ।

লুইস ক্যাটারিন ব্রেসলাউ (১৮৫৬-১৯২৭) -  সুইস চিত্রী লুইস আঁকলেন 'দ্য টয়লেট' ছবিটি যা অন্তরমুদ্রাবাদের একটি অন্যতম ছবি। দ্য রিডার, লেজি  মর্নিং- লুইসের অন্যতম কাজ। লুইসের কাজগুলোর মধ্যে আলোছায়ার ব্যবহার অনবদ্য।

আনা অ্যানচার (১৮৫৯-১৯৩৫) - ডেনিস চিত্রী আনা কোপেনহেগেনে তাঁর ছবি আঁকা শেখেন। পরবর্তীতে তার ছবি নরডিক আর্টে একটা বিশেষ জায়গা করে নেয়। তার ব্লু অ্যানি, গার্ল ইন দা কিচেন, আ  ফিউনেরাল অন্যতম ছবি। তাঁর আঁকা 'হারভেস্টার' ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দের ছবি। এছাড়া সানরাইজ ইন ব্লু রুম একটা অন্যতম অন্তরমুদ্রাবাদী ছবি অথবা ধরাযাক 'ইভিনিং প্রেয়ার' ছবিটি যেখানে আলোর ব্যবহার এককথায় অনবদ্য। (ছবি - ৩৯)


ছবি - ৩৯

 

নাদেজদা পেট্রোভিক (১৮৭৩-১৯১৫) -  সার্বিয়ান চিত্রী  প্রায় ৩০০ টি ক্যানভাসে ছবি করেছেন এবং অসংখ্য স্কেচ, ওয়াটার কালার যা তাকে প্রতিষ্ঠা দেয়। তাঁর ছবিতে রং এর ব্যবহারে যে বালান্স লক্ষ করা যায় তা উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনী অন্তরমুদ্রাবাদের প্রকাশে একটি অন্যতম পদক্ষেপ ছিল।

হ্যারিয়েট ব্যাকার (১৮৪৫-১৯৩১) -  নরওয়েজিয়ান চিত্রী ব্যাকার একাডেমিক শিক্ষা শেষ করে বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়ান এবং ১৮৮৮ সালে নরওয়ে ফিরে পাকাপাকি ভাবে বসবাস শুরু করেন  এবং ছবির কাজ করেন। তাঁর ছবিতেও ঘরের অন্দরমহলের আলোছায়ার বিন্যাস একটা অন্যতম চরিত্র হিসেবে ধরা পড়ে।

এলিজাবেথ নার্স (১৮৫৯-১৮৩৮) -  এলিজাবেথ নার্স রিয়ালিস্ট হলেও তার হ্যাপি ডেস, মেডিটেশন, ওম্যান উইথ আ হারপ অথবা দ্য কিস ছবিগুলোতে অন্তরমুদ্রাবাদের প্রভাব স্পষ্ট। 

আনা এলিজাবেথ কলাম্পকে (১৮৫৬-১৯৪১) - আমেরিকান চিত্রী আনা মূলত এঁকেছেন নারীর শরীর ও নিসর্গ। নানান পুরস্কারে ভূষিত আনার ইন দ্য হাউস, দ্যা মোমেন্ট রেষ্ট এমং দ্য লিলিস উল্লেখযোগ্য কাজ।

ফ্যানি চারবার্গ (১৮৪৫-১৮৯২) -  ফিনিশ চিত্রী চারবার্গ ছিলেন প্রধানত নিসর্গ চিত্রী  তার ল্যান্ডস্কেপ ইন মুনলাইট অন্তরমুদ্রাবাদের অন্যতম কাজ। (ছবি - ৪০ ও ৪১)


  

                       ছবি – ৪০                    

  

   ছবি - ৪১

 

অ্যানি হপফ (১৮৬১-১৯১৪) -  ফিনিশ চিত্রী অ্যানি ১৮৮২ সালে প্যারিসে চলে আসেন ছবি আঁকা শিখতে। পরবর্তীতে জুরিখে বসবাস করেন। তাঁর ছবির মধ্যে Autopsy অন্যতম।

 ফার্ন কপেজ (১৮৮৩-১৯৫১) -   

আমেরিকান অন্তরমুদ্রাবাদী চিত্রী ফার্ন শিকাগো আর্ট স্কুলে যোগদান করেন। তিনি মূলত এঁকেছেন নিসর্গ চিত্র, গ্রামের দৃশ্য। তাঁর কাজের মধ্যে 'অক্টোবর' ছবিটি উল্লেখযোগ্য।হারিয়াট রাণ্ডাল লুমিস (১৮৭০-১৯৫৩) -  লুমিস ছিলেন নিসর্গ চিত্রী। তাঁর ছবিতে অন্তরমুদ্রাবাদের প্রভাব স্পষ্ট। তাঁর কাজের মধ্যে একটা অদ্ভুত ব্যালেন্স লক্ষ করা যায় যা অন্তরমুদ্রাবাদের উল্লেখযোগ্য সম্পদ।

ইউরোপিয়ান ও আমেরিকান ছবিতে যখন অন্তরমুদ্রাবাদের দাপট তখন কিন্তু ভারতেও একেবারে বাংলায় ছবির জগতে মেয়েদের প্রভাব বিশেষভাবে ধরা পড়ছে। ১৮৭৯ সালে পঁচিশ জন নারী শিল্পীর ছবি নিয়ে চিত্র প্রদর্শনী হয় কলকাতার ফাইন আর্ট এক্সিবিশনটিতে। ইতিহাসে সর্বৈব ভাবে উল্লেখযোগ্য এই এক্সিবিশনে ২৫ জন চিত্রীর মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন বাংলার। বাংলায় তখন কাজ করছেন গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, সুচারু দেবী, সুনয়নী দেবী প্রমুখরা। গিরীন্দ্রমোহিনী দাসীর (১৮৫৮-১৯২৪)  ছবি স্থান পায় অস্ট্রেলিয়ার প্রদর্শনীতে। এছাড়া তাঁর ছবি প্রদর্শিত হয় ভারতী, মানসী, মর্মবাণী পত্রিকায়। মুসলিম চিত্রী হাসিনা খানম কাজ করেছেন এ সময়। তাঁর জল রঙের ছবি প্রকাশিত হয় সওগাত, বসুমতী পত্রিকায়। সুচারু দেবী (১৮৭৪-১৯৫৯) কাজ করতেন তেলরঙে। তার ছবিতে ইউরোপীয় শৈলির প্রভাব সুস্পষ্ট। সুনয়নী দেবী (১৮৭৫-১৯৬২)  ছবি এঁকেছেন বেঙ্গল আর্ট স্কুলের ধারায়। সাধিকা, অর্ধনারীশ্বর, যশোদা এবং কৃষ্ণ তার উল্লেখযোগ্য কাজ। (ছবি - ৪২)

ছবি - ৪২

 

চীনে এসময় কাজ করেছেন হি শায়াঙনিঙ (১৮৭৮-১৯৭২)। তিনি চীনের বিখ্যাত নারীবাদী চিত্রী ছিলেন লিঙন্যান স্কুলে। তাঁর ছবিতে মূলত গাছের মোটিভ ও পশু ব্যবহার হতো। রাজনৈতিক অবদান ও ছবির প্রকাশ তাকে অন্যতম উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। জাপানে কাজ করেছেন এসময় ইমাশিতা রিন (১৮৫৭-১৯৩৯)। ইতালিতে বসবাসরতা জাপানি চিত্রী কিওহারা তামা (১৮৬১-১৯৩৯)  ছিলেন অন্যতম।

 

অন্তরমুদ্রাবাদের চলনকে ধরতে চিত্রীদের অবদানকে তাই ভালোভাবে দেখতে হয়। কারণ এই প্রতিচ্ছায়া কেবল দ্বিমাত্রিকতায় সরে আসার ভাষ্য নয় নারী মননের ভাষ্যও বটে। ইম্প্রেশন হতে কিভাবে একটা ছবি হয়ে ওঠে তার আখ্যান লিপিবদ্ধ হয়েছে এই অন্তরমুদ্রাবাদীদের হাতে। পরবর্তীতে নিও-ইম্প্রেশনিজম এসেছে সুরাটের পয়েন্টালিজমের মধ্য দিয়ে এবং আরো পরে এসেছে সিম্বলিজম। সমস্তটাই এসেছে একটা মানসিক উত্তরণের তথা প্রকাশের উত্তরণের মধ্য দিয়ে। যা প্রতিচ্ছবি রেখে যায় মনে, ছবি হয়ে ওঠে প্রতিতীময়, আন্দোলন নাম পায় অন্তরমুদ্রাবাদ। যাকে অস্বীকার করা যায় না, যার প্রভাব ছবির দুনিয়ায় সর্বতোভাবে স্বীকার্য। 

(ক্রমশ)

 

 

 সূচিপত্রে যান

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

গানের লীলার সেই কিনারেঃ শুভময় ঘোষ

ছোটগল্পঃ শর্মিলার খোঁপা। সোমঋতা রায়।