টাউনলভ্যভোজ্যঃ হাংগ্রিল। শ্রীমতি ইডলি রসরাজ

 


টাউনলভ্যভোজ্য

হাংগ্রিল

শ্রীমতি ইডলি রসরাজ

 

সন্ধ্যেবেলায় পড়া থেকে বেরিয়েই অদ্ভূতভাবে মেয়ের প্রচন্ড ক্ষিদে পেয়ে যায়। আর চরম কাকতালীয়ভাবে আমারও তখন খুব এটা সেটা খেতে ইচ্ছে করে। আসলে রাত তো। তার অমোঘ আকর্ষণ খন্ডাবে কে? রাত মানেই তো গুলজার। আর গুলজার তো সেই কবেই লিখে দিয়েছেন-দিল তো বাচ্চা হ্যায় জি। দিল যেমন প্রকৃতপ্রস্তাবে সকলেরই বাচ্চা আবার মানুষ তেমনই বেসিকালি ক্যানিবাল। তাই মাংস পোড়ার গন্ধে তার পেটের ভেতর মুখের ভেতর কেমন আশ্চর্য গুড়গুড় শুরু হয়ে যায়। উৎস সন্ধান করে সে তখন দাঁড়িয়ে পড়ে নির্দিষ্ট দোকানটিতে। আমরাও বাবা মেয়ে এভাবেই একদিন মাংস পোড়ার গন্ধে মোহিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে ফুটপাথের যে টোটো দোকানটিতে ঢুকলাম তার নাম হাংগ্রিল।

নাম এবং বিশেষভাবে ডিজাইন করা টোটোর  মধ্যে তো একটা চমক ছিলোই আর দোকানদারের সাথে আলাপ করতে গিয়ে আরো চমকে গেলাম। এবারে প্রশ্ন হচ্ছে কেন দোকানদারের সাথে আলাপ করতে গেলাম। আমরা কি সাধারণত এমন দোকানদারের সাথে সেধে আলাপ করি? উত্তর খুব স্বাভাবিকভাবেই না। আসলে দোকান, তার মেনুচার্ট, তদারককারি দোকানদারের কথাবার্তা সবই মনে হল একটু আলাদা। তাই কথা হল।

অপত্যস্নেহ মানুষকে দিয়ে কত কিছুই না করিয়ে নেয়। ভদ্রলোক জানালেন পেশায় তিনি ছিলেন ইঞ্জিনীয়ার। বাইরে চাকরি। কয়েক মাস পর পর যখন বাড়িতে আসতেন ছোট্ট বাচ্চা কোলে আসতে চাইতো না। মন খারাপ। ধুত্তোর বলে একদিন চাকরিটাই ছেড়ে দিলেন। সারা ভারতে ঘোরার সুবাদে সামান্য জানা এবং স্ন্যাক্স খাবারের প্রতি একটা স্বাভাবিক পক্ষপাতিত্ব থাকাতে প্রথমে বাইকে করে খাবার বানিয়ে নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করা শুরু করলেন। এবং তার কথাতেই ভালো ও ফ্রেশ খাবারের থেকে মানুষ কখোনোই দূরে সরে থাকে না। তারপর তা থেকেই এই টোটো। আর কথায় কথায় জানা গেলো খুব তাড়াতাড়িই দোকানে শিফট করে যাচ্ছে হাংগ্রিল।

এবারে কি খাবেন? অনেক কিছুই আছে। তবে কোন কিছু ভালো লাগবার জন্য পূর্বরাগটা খুব জরুরী। তাই বোনলেস চিকেন পকোড়াটা দিয়ে শুরু করতে পারেন। আশা করি হতাশ হবেন না। তবে সঙ্গের ছবিটি চিকেন ললিপপের।

আর একটি কথা। এই চরম বেকারত্বের বাজারে অনেকেই সৎপথে নিজের উপায় নিজেই করে নিচ্ছেন। এতে কোন কুন্ঠা নেই। বরং এই মানসিকতাকে এই কলমচির কুর্ণিশ থাকলো।       

 

ফোটোঃ সত্যম ভট্টাচার্য

 সূচিপত্রে যান

মন্তব্যসমূহ

  1. সত্যি খুব ভালো খাবার পাওয়া যায় হ্যাংগ্রিলে। আর ভিতরের গল্পটা জানতে পেরে আরো ভালো লাগলো।

    উত্তরমুছুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

গানের লীলার সেই কিনারেঃ শুভময় ঘোষ

ছোটগল্পঃ শর্মিলার খোঁপা। সোমঋতা রায়।

হুকার, হজসন, হোলিঃ সুপ্রিয় ঘটক